Posts

বিরহ খেলা

  অবিকল দাদুর হারিকেনের আলোর মত  সোনালি রঙের ভালবাসা মুখে মেখে  বলেছিলে চল দুজনে মিলে নক্ষত্রের তলে বিরহ খেলি আজ আমি শত ক্রোশ দূরে  মরুভূমির পাড়ে কুলকুল বয়ে চলা পাথুরে  নদীর জলে  দাঁড়িয়ে ভাবি  একরাশ অভিমান নিয়ে  চল না বিরহ খেলি আমাদের রাত্রিরা জ্যোৎস্নার উত্তেজে  সূর্য হয়ে গেছে  অথচ ছোঁয়াছুঁয়ি খেলতে চেয়েছে মন  আয়েশা আর মোহম্মদের মতন স্বর্গ থেকে আদমেরা যেমন অনন্ত বিরহ এনে  দিল হাওয়াদের হিমেল শীতল  মনে তেমনি তোমার পদতলে রাখিব হৃদয় অত:পর আমারে পরিত্যাগ করিতে পারিবে না

ববির জন্য

  ববি তোমার মাঝবয়সে  চুলও গেছে পেকে  তুমি মাইরি  বড়ও হলে  রাখল মনে কে কে    ফর্ষা গায়ের বড়াই কোথায় কড়াই যাচ্ছ ঠেলে  স্বামী ঘুমায় অন্য খাটে ঝামটা মারে ছেলে  বান্ধবীরা কোথায় এখন থাকত সদাই ঘিরে  কিনতে যখন যাও বাজারে ঘামতে থাক ভিড়ে  তোমার করা থিসিসগুলো হয়তো জগত সেরা  ভাবল কী কেউ কেন তোমার হয় না দেশে ফেরা  দেওয়ানপাড়া গোলাপবাগে কিংবা বকুলতলায়  কে বা তোমার স্মৃতি নিয়ে এখন কাব্য ফলায়  এক জীবনে সফলতাই হল কী শেষ কথা  ছোট্ট বেলার কথা ভেবে হয় না মাথা ব্যাথা?  তারও পরে ভাব যদি ভাবটা আজও আছে  মরবে তুমি দেখে নিও জানবে না কেউ পাছে

বেওয়ারিশ সন্ধ্যা বেওয়ারিশ সন্ধ্যা

আমাকে যখন নির্মমের মত এসেছি ফেলে, তখনও রাস্তার কোণে দুপুরের সূর্য হেলে পরেনি, ঠিক সে জায়গাতেই আমি দাঁড়িয়ে-- থেকে থেকে গিয়েছি রোমানদের মত ক্লান্ত হয়ে। অথচ দেখ আমি ইসমাইলের মত এখনও  কোরবানি হবার অপেক্ষায় বসে থাকি নিশ্চিন্ত; ইব্রাহিমেরা সদা ছুরি শানিয়ে চলে দোতলায় বসে, আর সে ফেলে আসা আমি পাড়ার রাস্তায় নিঃশেষে  অপেক্ষায়, কবে বড় হয়ে যাওয়ার প্রতীক্ষায় থেকে থেকে একটা পরলোকগত বেওয়ারিশ সন্ধ্যায়-- হারিয়ে গেলাম ব্রক্ষ্মপূত্রের অতল গহ্বরে  এভাবে, এভাবে, আর এভাবেই।                                    

আপাতত শিরনামহীন

Image
 

ক্লান্ত পরিব্রাজক

তোমার স্মৃতির  মৃত ফুলেরা  সতেজে প্রকাশমান সন্ধ্যাকাশে প্রতি গোধূলিতে ঝরে রুধিতে  অতৃপ্ত  বাসনা বালিশে, হাত ঠেকে যায় শুধু শুণ্যতায় ভরা বিছানায়,   আমাদের বিরহের কলরবে শুনি অন্য কারও সুর  ছিন্ন  অভিসারে বেদনাবিধুর  শালিকেরা বলে যায় কানে কানে  তুমি আর আমার নও  ছিলে না কোনকালেই বোধহয় অথচ ছুটেছি এক মহাকাল লাল পদ্মের মাঝেও ছোট জলকণাতেও হাতড়ে দেখেছি  একেকটি গল্পের মাঝেও ডুবে গিয়েছি  নিতান্ত তোমার খোঁজে,  ঝিনুকের বুকে কেটেছে সময় হেঁটে যাওয়া ডানাভাঙ্গা জীব্রিলের মত দমবন্ধ একেকটি মুহুর্ত যেভাবে আবেগে দিন শেষে বাড়ি ফেরে ক্লান্ত পরিব্রাজক তবু সুনিশ্চিত পেয়ে বুঝেছি তোমায়  তুমি আর আমার নও  ছিলে না কোনকালেই বোধহয় অথচ ছুটেছি এক মহাকাল

আশাহত

 হাতবোমা বানাতে না পারার ব্যার্থতাকে চাপা দিতে রাত্রিজুড়ে এঁকেছি এক আকাশ চুম্বন, লিফটের পাশে নিথর পড়ে থাকা সিঁড়ির মতন  ঠায় দাঁড়িয়ে থেকেছি চৈত্র‍্যের দুপুরে। একবার উপরে উঠে গেছি আর নেমে এসেছি উগ্রবাদী প্রেমিকের মত, জানি না কেন। নি:শব্দে পেঁচিয়ে ঢুকে পড়েছি অচেনা কিশোরীর ঘুমের ভেতরে; কীভাবে যেন স্বপ্ন হয়ে যাবার ফলে আর বাস্তবে ফিরতে পারি নি। অথচ আমারও কথা ছিল সোনাডাঙ্গার তিন বেডরুমের ফ্ল্যাটে পার্সিয়ান বিড়াল হবার,  কিংবা একটা গাছে ঝুলে থাকা কথা না বলা পাখি।

আমাদের ভাল থাকারা

অত:পর পুণরায় অন্ধকার আসে ফিরে যাই আমি বহুদূরে সাগরে দূর্বা ঘাষে ডুবতে থাকা মানুষের মত অবিরত এ ভিত্তিভূমি অতল হয়, হয়ে যায় গহ্বর ডুবন্ত সূর্যদের আর্তনাদ বাজে রাত জাগা ভায়োলিন আর আমি বিষন্নতার জন্য তুলে রাখি কিছুটা সময় নি:সঙ্গ দৈনন্দিন সন্ধ্যার চোখে দেখি তার রঙ নির্মম সুন্দর ধূসর ঝিঝিদের ডাকের মত ক্লান্ত, নীরব, নিস্তব্ধ জানো তো ভাল থাকতে নেই, হে অভিশপ্ত ভাল থাকা তোমাদের জন্য আমার আর কোন অপেক্ষা নেই