Posts

Showing posts from August, 2023

মৃতদের শহরে

  কেউ নেই শহরে অন্ধকার শূণ্যতা সব  দালানে একঘেয়ে ভেসে আসে কান্নার সুর দূর অতিদূর যেন ভায়োলিন বেজে চলে কেউ শোনে নি কোনদিন ধুলো চাপা রাস্তায় বিকল সিডান পায়ে পায়ে কঙ্কাল হাসে নিষ্প্রাণ উল্লাসে চিৎকারে ফেটে পড়ে অশরীরী অশরীরী অশরীরী উল্লাসে উল্লাসিনী একে একে ছিনিয়ে নেয় তারা দের ছিনিয়ে নিয়ে যায় আলো আকাশের মিছিলে মিছিলে হেঁটে বেড়ায় অশরীরী অশরীরী অশরীরী তুমি তারপর অবলীলায় তার ঠোঁটে আমিও  যাই হারিয়ে তার রক্তের নেশায় ডুবে যাই আমিও  যাই হারিয়ে আমাদের ভালবাসায়

কবিতার ওড়াওড়ি

 প্রতিরাতে একটা কবিতা আসে আর ঘর জুড়ে ঘুরপাক খায়, সিলিংফ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে থাকে ফ্লোরে ধরতে গেলে ঠিক আবার উড়ে গিয়ে বসে  জানালার কোণে বা পর্দার ভাঁজে শতাব্দীরা এসে ভীড় করে দেখে সহস্র বছরও কেটে যায় কোন কোন রাতে  বিদেহী আমি রাত জেগে ওড়াওড়ি দেখে পড়ে থাকি  একবার ছুয়ে দেখব বলে ডাকাডাকি।। কোন কোন দিন বিধুরতা আসে বাতাসে ভর করে আমার কার্ণিসে বসে থাকে কাকেদের সাথে  কখনও ফড়িং কিংবা ইতিহাসের  মত  চলে যায় লাল ডাকবাক্সে কিংবা পাশ বালিশে হলুদ খামে ভরা সুগন্ধি  নীল চিঠি অক্ষরে অক্ষরে স্মৃতি বিস্মৃতি  ওড়াওড়ি করে এ বাড়ি ও বাড়ি  বিদেহী আমি রাত জেগে ওড়াওড়ি দেখে পড়ে থাকি  একবার ছুয়ে দেখব বলে ডাকাডাকি।।

বিষন্নতা

 একাকী একটি নক্ষত্র আমার দেয়ালে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে ঠিক চোখের মাঝে তাক করে শুষে নিতে চায় প্রাণশক্তি ভাসিয়ে নেয় বেলকনি, স্তব্ধ করে দিয়ে গিলে খায় ফোবিক রাত্রি নি: শ্বাসের সঙ্গে তিলতিলে আমি হারাতে থাকি অতলে যেখানে গেলে খুঁজে পাব তোমায় হে আলোর উল্লাস বিষন্নতার অন্ধকারের পরেও জানি আলোরা থাকে অথবা মৃত্যু ফিরে এসো হে বৃষ্টি আমার ঘরে ফিরে এসো হে আলো এ অন্তরে প্রভু মোরে নিয়ে যাও সে উল্লাসে আমাকে ভাসাও খুশির সর্বনাশে অনেক আমি আরও আমি হাত ধরাধরি করে ক্লান্তির শহরে নির্জন আঁধারে বদ্ধভূমিতে শান্তি খুঁজেছি আর নিভৃতে বোকা পাখিদের সাথে গান বেঁধেছি যেন আমিই ট্র‍্যাজেডি

ফড়িং মেয়ে

  ও মেয়ে ফড়িং মেয়ে কুড়াও গোলাপ ফুল আকাশের শুকতারাটা তোমার কানের দুল লো তোমার কানের দুল।। তোমার চোখের ভালবাসা আমার বইয়ের ভাঁজে বেহায়া পীরিত থামে তোমার বুকের খাঁজে গো তোমার বুকের খাঁজে।। কোমড়ের বাঁকে তোমার সন্ধ্যা ঝুলে থাকে বিরহের নীল পাখিরা হাতছানিতে ডাকে রে হাত ছানিতে ডাকে ও মেয়ে ফড়িং মেয়ে মাঝ আকাশে ওড়ো পীরিতের গন্ধ হয়ে আমার পাশে ঘোরো রে আমার পাশে ঘোর।। ও মেয়ে ফড়িং মেয়ে কুড়াও গোলাপ ফুল আকাশের শুকতারাটা তোমার কানের দুল লো তোমার কানের দুল।।

পাখির মত জীবন

  এ জীবন পাখির জীবন উড়ে যায় পাখির মতন এক গাছে বাসা বেঁধে চলে যায় কেঁদে কেঁদে প্রেমেরা বালিশ হয়ে গোপনে নালিশ করে মুনকার আর নাকির বসে নীরবে শালিস ধরে এ জীবন পাখির জীবন উড়ে যায় পাখির মতন এক গাছে বাসা বেঁধে চলে যায় কেঁদে কেঁদে এ জীবন হায়রে জীবন পরে রয় ধুলোর মতন উত্তুরে হাওয়া এলেই উড়ে যায় যখন তখন এ জীবন ঘুড়ির মতন কেটে যায় এক সুতাতে ও জীবন যায়রে জীবন বদলে যায় প্রতি রাতে এ জীবন পাখির জীবন উড়ে যায় পাখির মতন এক গাছে বাসা বেঁধে চলে যায় কেঁদে কেঁদে

নিরবে নির্জনে নিভৃতে গোপনে

  নিরবে নির্জনে  নিভৃতে গোপনে আমারও বাসরে আসিও আমারও পাশেতে হাত রেখে হাতে তে পালঙ্কে উঠিয়া বসিও আমারে সপিয়া দেব যে বসিয়া ঘরেরও ধুপেরই ঘোরেত পাগলও করিয়া নিও প্রাণ হরিয়া কালাগো বাঁশিরই সুরেতে।। এ মাথার খোঁপাতে তোমারও দুহাতে কদমও গুজিয়া সাজিও ঘুমায়া পড়িলে তোমারও শরীলে কোমড়ে হাত দিয়া রাখিও নিরবে নির্জনে  নিভৃতে গোপনে আমারও বাসরে আসিও নিশিথ রাতেতে আমারও কাছেতে পালঙ্কে উঠিয়া বসিও

ইনসমনিয়ার প্রেম

হলদে হতাশায় কেটে যায়  দিন সব গিটারের তারে তাই বিরহের কলরব বিরহের কলরব বেজে যায় প্রতিদিন ইনসমনিয়াতে রাত যায় ঘুমহীন ঘুমহীন রাত যায় ঘুমহীন প্রতিদিন আজ এখানে চলো দুজনে নিজেদেরকে পুড়িয়ে যাই এ শ্মশানে একা নির্জনে আমাদের  এই ছাই  উড়াই নীল স্মৃতিতে  একা নিভৃতে দুজনে চলো হারিয়ে যাই আর সন্ধ্যায় আমরা অতলে ডুবে যাই।। শিষ কেটে বুক চিড়ে  সন্ধ্যারা ছুটে যায় একাকী নিশ্চুপ মুখরিত জানালায় ঝলমলে  চুপিসারে মৃত্যু  বলে যায় আয় হায় বুকে  আয়  শ্রান্ত নিরালায় বিরহের কলরব বেজে যায় প্রতিদিন ইনসমনিয়াতে রাত যায় ঘুমহীন ঘুমহীন রাত যায় ঘুমহীন প্রতিদিন আজ বুঝি না কোন অজানা কারণে তুমি এত দূরে কেন হারালে স্মৃতির আড়ালে জানি না কোন ভুল সুরে এক আকাশে ভেজা নি:শ্বাসে জোসনাতে হারিয়ে যাও আর আমাকে ধোঁয়াতে ডুবিয়ে রেখে দাও। ফিরে এসো না আমার এ বুকে ষোড়শীর  মত আবেগে প্রেম দিয়ে যাও ঘুম ছুয়ে দাও আমারই এ দু চোখে এক আঁধারে এ আমারে ও প্রেমে  ভিজিয়ে দাও আর আমাদের প্রেমের এ এপিটাফ লিখে যাও

মাঝে মাঝে এ আকাশে মেঘেদের দেখা যায়

  মাঝে মাঝে এ আকাশে মেঘেদের দেখা যায় সোনা রঙে গোধুলিতে তারাদের পাহারায় আকাশের বুকে হায় বিরহ সীমাহীন স্বপ্ন ছড়িয়ে উদাসী সব নীল উদাসী সব নীল আমাদের বিছানায় আমাদের বিছানায় নির্বাক কেঁদে যায় তুমি ছিলে অপ্রকাশে পাহাড়ী ঝরনায় পাথরের এ হৃদয় আর নয় আর নয় ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে কান্না লুকিয়ে শরীরের কোলাহলে গেছি হারিয়ে আজ তাই প্রাচীন সে ভায়োলিন সারা রাত আর্তনাদ করে অন্তহীন উদাসী সব নীল আমাদের বিছানায় আমাদের বিছানায় নির্বাক কেঁদে যায়

এই জোসনায় তারাদের আকাশে

 এই জোসনায় তারাদের আকাশে  দুজনায় ভেসে যাই হাতে হাত রেখে  মেঘের আড়ালে  আমরা চলো লুকাই নিষাদ ও চোখে বিষাদ দেখে  ডুবে যাই  আমরা ডুবে যাই পশ্চিম সন্ধ্যায়  নিস্ব: অবহেলায় অনিশ্চিত যে রাতে অন্ধ আবেগে তারারা খসে যায় বুকের ভেতরে অন্ত গহীণে ঘাষেরা রঙ বদলায় প্রেমের রাজপথে দৃপ্ত শপথে  নাম ধরে ডাকি তোমায়  গেছ হারিয়ে দূরের পাহাড়ে একাকী করে আমায় আমরা ডুবে যাই পশ্চিম সন্ধ্যায়  নিস্ব: অবহেলায় মৃদু বাতাসে  তোমার সুবাসে  চলো ঘামে ভিজে যাই ক্লান্ত এ দেহে শ্রান্ত আবেগে ভরে যায় অশ্রু ধারায় অশ্রু ধারাতে চাই যে হারাতে  সেই সে দিগন্ত রেখায় আমরা ডুবে যাই পশ্চিম সন্ধ্যায়  নিস্ব: অবহেলায় অনিশ্চিত যে রাতে অন্ধ আবেগে তারারা খসে যায় বুকের ভেতরে অন্ত গহীণে ঘাষেরা রঙ বদলায় প্রেমের রাজপথে দৃপ্ত শপথে  নাম ধরে ডাকি তোমায়  গেছ হারিয়ে দূরের পাহাড়ে একাকী করে আমায় আমরা ডুবে যাই পশ্চিম সন্ধ্যায়  নিস্ব: অবহেলায়

স্মৃতির প্রজাপতি

 আমার স্মৃতির প্রজাপতিটা রেখেছি তোমারই বুকে  ভুলে যেও না দুখের সুরের এ ভায়োলিন বাজে প্রতিদিন  ছুড়ে দিও না অনন্ত বিরহ প্রতিটি ক্ষণে চাই তারপর যাই হারিয়ে প্রতি সন্ধ্যায় তোমার মায়ায় জড়িয়ে আমায় কত কেঁদেছি  মনে রেখো না রাতের ধোঁয়ায় চাঁদেরই নেশায় ডুবে গিয়েছি  তুলে নিও না অনন্ত বিরহ প্রতিটি ক্ষণে চাই তারপর যাই হারিয়ে প্রতি সন্ধ্যায় কোন প্রভাতে সূর্য হাতে যদি দেখ হায় দাঁড়িয়ে আমায় দরজা খুলে তোমারই চুলে রোদটা মেখে  জানিও বিদায়  অনন্ত বিরহ প্রতিটি ক্ষণে চাই তারপর যাই হারিয়ে প্রতি সন্ধ্যায়

দেওয়ান পাড়ার রীমা

  দেওয়ান পাড়ার রীমা যেন কালো পূর্ণিমা আসতে বারান্দাতে চায়ের কাপটা হাতে মিথ্যে ছলনাতে থাকতে শুধুই চেয়ে গ্লাসে চোখটা ঢেকে গভীর  আবেগে বললে ভালবাসি হাতে হাতটা রেখে বকুলতলার পথে ছুড়লে মুচকি হাসি আহ আর কোনদিন অন্তহীন  আবেগে বলনি  ভালবাসি, ভাল, ভালবাসি আহ আজকে ওগো রীমা কতকাল দেখি না ওই সে বারান্দাতে অভিযোগ কর না যখন আর আসি না ল্যাম্পপোস্ট জ্বলা রাতে অভিশাপ ছুড়ে দিলে তোমার ওই মন খুলে আমাকে ভালবেসে কোথায় হারালে অসীম অন্তরালে নি:শেষ অবশেষে আহ আর কোনদিন অন্তহীন  আবেগে বলনি  ভালবাসি, ভাল, ভালবাসি আহ একদিন সেই সে রীমা কেন যেন জানি না হলে পরবাসী কোথায় লুকালে কান্নার আড়ালে মুছলে মুচকি হাসি আহ আর কোনদিন অন্তহীন  আবেগে বলনি  ভালবাসি, ভাল, ভালবাসি আহ

দগ্ধ দুপুর

দগ্ধ দুপুর বেলাতে নক্ষত্র ভরা রাতে তোমার বুকেরই ঘাষে ক্লান্ত দখিণা বাতাসে আমি ভেসে বেড়াই আকাশের নীলের ওপারে রাতের নি:স্ব শিশিরে ভোরের আলোর আঁধারে হারানো তারার ভীড়ে আমিও ডুবে যেতে চাই তোমারই সুবাসে ডুবে যাই বাতাসে ডুবে যাই নি:সঙ্গ সময় দূর্বার বাতাসে পাখিদের ঘরে ফেরা সন্ধ্যায় গাছেদের গানে আর তোমাদের ভালবাসায় মিলেমিশে একাকার আজ এখানেই মেঘেদের মায়ায় বটেরই ছায়ায় স্মৃতির এলবামেই খুলে থাকে খামেই চিঠি হয়ে যায় ঠিকানা  নেই যে আমার ভোরের আলোর আঁধারে হারানো তারার ভীড়ে আমিও ডুবে যেতে চাই তোমারই সুবাসে ডুবে যাই বাতাসে ডুবে যাই নি:সঙ্গ সময়

ইনসমনিয়ার গান

  রাইতে বন্ধু থাকে জাইগা  বারন্দাতে বসে আকাশ থেকে নাইমা চান্দে বইসা থাকে পাশে বুকের সঙ্গে বুক মিলায়া গায় যে প্রেমের গান আমার বন্ধুর ঘুম আসে না হায়রে সুনার চান ওরে জোসনা তোমার পাওয়ে ধরি আইজকা খালি যাও আমার বন্ধু না ঘুমাইলে আমার মাথা খাও বন্ধুর আমার বুকের ভিতর কত্ত অভিমান আমার বন্ধুর ঘুম আসে না হায়রে সুনার চান ওরে লক্ষীন্দরের নাও ভাসাইছি গাঙ্গে দিলাম পাড়ি আমার বন্ধুর জন্য আমি ঘুমটা আনুম কাড়ি বন্ধুর আমার ওই চোখেতে কত্ত পেরেশান আমার বন্ধুর ঘুম আসে না হায়রে সুনার চান ওরে রাইতে বন্ধু থাকে জাইগা  বারন্দাতে বসে আকাশ থেকে নাইমা চান্দে বইসা থাকে পাশে রূপার রঙ্গের কুপি বাতি টিমটিমায়া জ্বলে আ হো বন্ধু ঘুম পারামু আমার আঁচল তলে বন্ধু আইজকা একটু কইছি ঘুমাও আমার জান আমার বন্ধুর ঘুম আসে না হায়রে সু নার চান

দুর্যোধন

 আমি একজন দুর্যোধন হেরে গেছি কুরুর মাঠে কুরুর মাঠে হেরে গেছি হেরে গেছি ছলনাতে আমার ওই রাজসিংহাসন  দুর্যোধনের শবাসন খুনে ভেসে যায় বুকখানি  তলোয়ারের ঝলকানি ঘৃণা ভুলে যাও  দাও চুম্বন  জানালায় দেখ দুর্যোধন ষড়যন্ত্রীর উল্লাসে  ভগবান আজ খুব হাসে ভেঙ্গে যাওয়া হৃদয় হাতে ঠায় দাঁড়িয়ে জানলাতে ঘৃণা ভুলে  দাও চুম্বন জানালায় দেখ দুর্যোধন তোমার বুকের রাজপথে হেঁটে যেতে চাই একসাথে ভুলে যাওয়া সেই রাজপথে ফুল ছুড়ে দাও দুই হাতে ঘৃণা ভুলে যাও  দাও চুম্বন  জানালায় দেখ দুর্যোধন হেরে গেছি আমি  কুরুর মাঠে হরপ্পাতে হেরে গেছি  হেরেছি মহেঞ্জোদারোতে ঘৃণা ভুলে যাও  দাও চুম্বন  জানালায় দেখ দুর্যোধন

কেটে যাওয়া ঘুড়ি

 কেটে যাওয়া ঘুড়ির মত  আমি যে অবিরত  তোমার ওই আকাশে ঘুরে ঘুরে যাই বিরহ বেদনায় নীল হয়ে যাই।। বাতাসে ভেসে আসে ফড়িঙের সুর  তুমি সেই গান কখনও শুনে দেখ না হৃদয়ে ক্ষরণ হয় সারাক্ষণ রক্তে  ভেসে যায় তুমি তা চেয়ে দেখ না কেটে যাওয়া ঘুড়ির মত  আমি যে অবিরত  তোমার ওই আকাশে ঘুরে ঘুরে যাই বিরহ বেদনায় নীল হয়ে যাই।। আমারই চোখের জল মিশে যায় মেঘেতে তোমাকে তা কখনও ছুঁতে দেব না একা বসে বিকেলে তোমারই স্মৃতি নিয়ে  একা হয়ে যাই আরও তুমি  জানো না কেটে যাওয়া ঘুড়ির মত  আমি যে অবিরত  তোমার ওই আকাশে ঘুরে ঘুরে যাই বিরহ বেদনায় নীল হয়ে যাই। এত যে আপন ছিলে হারিয়ে তাই বুঝি বিরহের কি যে বেদনা সব প্রেম ভুলে তুমি নিরবে চলে গেলে  আমাকে কেন জানি মনে রাখো না তোমার ওই ক্যানভাসে আছি যে উধাও হয়ে  হলদে রঙের সে কি যাতনা আজ তুমি পাশে এসে আমারই চোখ মুছে  ভালবেসে বলে যাও ভুলে যেও না কেটে যাওয়া ঘুড়ির মত  আমি যে অবিরত  তোমার ওই আকাশে ঘুরে ঘুরে যাই বিরহ বেদনায় নীল হয়ে যাই।।

পিতার মৃত্যু

  বাজান তোমায় আদর করে জড়ায় মার্কিন কাপড়ে একা রাইখা চইলা আইলাম কাঞ্চা বাঁশের আন্ধারে।। ভাই বেরাদার মুরুব্বিরা কত যে দেয় সান্তনা যার বাজান যায় তার বাজান আর কোনদিনও আসে না এত ডাকি বাজান তুমি তবু জবাব দিলা না কোন দেশেতে রওনা দিলা একবার ফিরা চাইলা না বাজান তোমায় আদর করে জড়ায় মার্কিন কাপড়ে একা রাইখা চইলা আইলাম কাঞ্চা বাঁশের আন্ধারে।। দূরদূরান্তের আত্মীয়রা আসল তোমায় দেখিতে তাদের রেখে উঠলা তুমি চার বেহারার পালকিতে এত কঠিন পৃথিবীতে  একলা ফেলে এ আমায় আমার বাজান দেখ তোমরা ছুটল নতুন দুনিয়ায় পায়ে ধরি ও পড়শি আমার বাজানরে দেখাও মুখের থেকে ও বাজানের মার্কিন কাপড়টা সরাও আমার বাজান আন্ধার ডরায় বাতি জালাও কবরে কানতে কানতে ঘুমাই আমি এত জালা অন্তরে বাজান তোমায় আদর করে জড়ায় মার্কিন কাপড়ে একা রাইখা চইলা আইলাম কাঞ্চা বাঁশের আন্ধারে।।

কলঙ্ক

  কুল মানও  কাইড়া গো নিলা আমারে কলঙ্ক দাও বিষের বাশি  আজ বাজিয়ে অভাগীরে ক্যান কান্দাও কেউ বুঝে না আমার পীরিত তুমি কদম গাছেতে কোলে নিয়া আদর করে বল কানের কাছেতে তোমার প্রেমের বিষে গো আমার নীল হয়ে যায় সারা গাও কুলও মানও  কাইড়া গো নিয়া আমারে কলঙ্ক দাও তোমার দ্বারে বসে গো থাকি আঁচল বিছাই ঘাষেতে নিশি রাতে কাছে এসে হাত রেখে দাও মাথেতে তোমার প্রেমের কলঙ্কতে আমি হই কলঙ্কিনী আজ বুঝি না তোমায় ছেড়ে কেমনে কাটে দিন রজনী তোমার প্রেমের বিষে গো আমার নীল হয়ে যায় সারা গাও কুলও মানও  কাইড়া গো নিয়া আমারে কলঙ্ক দাও আমার বাড়ির উঠানেতে জ্যোৎস্না হইয়া ভাইসা যাও এ বুকেতে আজকে রাতে তোমার প্রেমের সুর বাজাও পাড়ার লোকের ধার ধারি না ডুব দিব তোর যমুনায় মালা হয়ে ঝুলব গলে আয়রে কালা বুকে আয় তোমার প্রেমের বিষে গো আমার নীল হয়ে যায় সারা গাও কুলও মানও  কাইড়া গো নিয়া আমারে কলঙ্ক দাও।।

উপেক্ষা

আমার জন্য ও বুকেতে আর ভালবাসা নেই শুধু করুণা প্রতিক্ষণে হায় কি যে অসহায় তীব্র ঘৃণা তোমারই কাছে আমি যেন এক যাপিত জীবন অর্থবিহীন হতাশারঙ্গীণ অনুরণন আমাকে ভুলে যাও দাও ছুড়ে দাও সুদূরে যতখুশি হায় ঘৃণাভরে  আমায় ভাসাও সমুদ্দুরে তাকিয়ে দেখ আমিও উধাও নেই যে কোথাও ওই দেয়ালে আসব না আর অভিমানে তোমার বুকে কোন খেয়ালে ধো ঁ য়া হয়ে হায় হারিয়ে গেছি ওই শ্মশানে কেঁদো না আমায় লোকদেখানো ভেবে দিন যাপনে তাকিয়ে দেখো সবুজ পাতায় নতুন করে শিশির পড়ে ঘৃণাই কর বেসো না ভাল এই আমাকে করুণা করে আকাশের ওপাশে আমি চলে যাব শেষে আমার স্মৃতি ভাসিয়ে দিও দূর্বার ঘাষে যেখানে নি:সঙ্গতা উৎসব হয়ে থাকে

অন্ধকার শহর

 এ শহর থেকে আলোরা সব ট্রেনে ছাদে চলে গেছে আমি দেখেছি সেই নির্জন রাতে জোনাকিরা সাথে চলে গেছে নিরবতাতে, পাখিরা সব ভুলে কলরব  আঁধারের সাথে কালো  রাজপথে ঘুরে বেড়ায়, হাতগুলোতে শৃঙ্খলাতে অবশ করে দেয়  আর চিৎকার করে বলে আমায় ভুলো না,  ভুলো না আমায়, ভুলো না আমায় আর আলোদেরকে ডেকো না ট্রেনের জানলাতে অসহায় আলোকে  আমি কাঁদতে দেখেছি বোকা ল্যাম্পপোস্টের নিরবতাকে বুক পকেটে রেখেছি আর অভিমান নিয়ে চলে গেছি সবুজের ওপাশে  যেখানে বাতাসে ঘাষের সঙ্গে  হলুদ আবেগ মেঘ হয়ে আসে  অথচ তোমারা জানতেও চাও নি  কেন ছায়াগুলোও চলে গেল ছায়াপথে   আর চিৎকার করে বলে আমায় ভুলো না,  ভুলো না আমায়, ভুলো না আমায় আর আলোদেরকে ডেকো না

চল্লিশের দশক

 পাঁজরের ভেতরের বালিশটা হাত দিয়ে দেখি নেই নজরের ওপরের শালিকটা কাত হয়ে আছে সেই টুপ করে সরোবরে পরে গেলে বালিশের সাথে ইশ্বর  কানে কানে বলে ভাল নেই এখানে জীবন এসে ফিরে গেছে নিরাবেগ অভিমানে খুব ভোরে নড়েচড়ে সরে গিয়ে হাতড়াতে হাতড়াতে  দেখি ঘুমগুলো এলোমেলো ভেঙ্গে গেল  একি জমকালো মৃত্যু নেচে নেচে এল  আর আবেগের ঘোরে বলে চলে গেল মোরে হারিয়েছ যারে পাবে নাকো তারে, ওপারে এপারে জ্যোৎস্নার সাথে মিশে গিয়ে বলে ভাল নেই ঠোঁটে ঠোঁট রেখে বলে আমি গেছি হারিয়েই ইশ্বর  কানে কানে বলে ভাল নেই এখানে জীবন এসে ফিরে গেছে নিরাবেগ অভিমানে কোন পরপারে তুমি তাহাকে আর কখনই পাইবে না  বালিশগুলো সাবধানে কোন কালে কেন রাখলে না?

মর্সিয়ার উৎসবে

  এক ঘর অন্ধকার বিষন্নতা সঙ্গী করে নি:সঙ্গতা বুক বেয়ে সরীসৃপ হয়ে উঠে যায় আমার বিছানায় আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে তার লিকলিকে জিভ দিয়ে হিস হিস করে বলে তিলেতিলে নি:শেষ করে দিবে আমাকে সুদূরের সাগরে মেঘেদের দল জল ভেঙ্গে এনে এ চোখে ভিজে যায় কান্নায় নাবিকের গুণগুণ করুন সুর হয়ে বেহালায় একা বেজে যায় আর আমি ডুবে যাই বিষন্নতায় ভয় হয় খুব  নিশ্চুপ ডুব শব্দহীনতায় দিন কেটে যায় রাতেরাও আর ফিরে আসে না ওরা হিস হিস করে বলে তিলেতিলে এ আমায় নিয়ে যাবে খুব অজানায় জানালায় একটা দীর্ঘশ্বাস ক্লান্তিহীন ঠায় দাঁড়িয়ে উঁকি দিয়ে চেয়ে থাকে নিদ্রাহীন হাত বাড়িয়ে নিষ্প্রাণ মর্সিয়া গেয়ে যায় রীতিমতো অভ্যাসে ফিরব না আর কোনকালে  উৎসবের কোলাহলে আমিও হারিয়ে যাব বিষন্নতা ইত্যাদির অন্তরালে

গোপন দুপুর

  আমার একটা গোপন দুপুর আছে কাঁচের গ্লাসে রাখা ফুলদানিতে রাতের শেষে সুপ্রভাতে যেভাবে বাগানের ফুলেরা ফোটে তেমনি আমারই অভিসার  সাজিয়ে রেখেছি স্মৃতিগুলো বুকের নোটবুকে টুকে রেখেছি ছুঁয়ে দেখ এখনও তাজা যেন ভেজা ফুল হাস্নাহেনার মত গন্ধ ছড়ায় খুব কড়া পাশ দিয়ে চলে যাওয়া প্রেমিকার সুগন্ধির মত কাঁপন জাগানিয়া চুম্বন শিশির হয়ে টুপ করে ঝরে পরে অভিসারের বুকে এভাবেই আমাদের মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়ার কথা রূপকথার গল্পের মত ডানা মেলে যেখানে বসে থাকি আমরা রাজকুমার আর রাজ কুমারী

গল্পের বদলে হৃদয়

  ট্রেনের জানালাতে ঝুলে থাকে ছুটে চলা পেরিয়ে যাওয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকে প্রতীক্ষা সিটের পাশে নি:শ্বাস ফেলে তীব্র বাসনায় অগ্নিযুগের ভাল লাগারা এসে চেপে ধরছে হৃদয় এমন একটি গল্প বলে চলে গেল জাদুকর তারপর উড়ে গেল ঝড় ধুলোমাখা স্বার্থপর ঝড় আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত ছুটে চলি স্টেশনে স্টেশনে দৌড়ে দৌড়ে  হাপাই গল্পদের পেছনে পেছনে এক বুক শ্বাস নিয়ে হাপ ধরা কল্পনা হাতে সত্যিই একদিন আমি চলে যাই মহেঞ্জোদারোতে সেই জাদুকর  নিয়ে চলে যায় কালো ঝুলিতে করে গল্পের বদলে হৃদয় তারপর উড়ে এল এক সরোবর গান গেয়ে গেয়ে যায় মনোহর প্রাচীন হৃদয় গল্পের জন্য  অধীরে বসে থাকে আরও গভীরে চলে যায় নিস্তব্ধ আবেগে ট্রেনের বগিরা ছুটে চলে একেকটি সভ্যতা পেরিয়ে অবলীলা য় উপেক্ষা ছুড়ে দেয় স্টেশনে স্টেশনে দৌড়ে দৌড়ে  হাপাই গল্পদের পেছনে পেছনে এক বুক শ্বাস নিয়ে হাপ ধরা কল্পনা হাতে তারপর আকাশ উড়ে আসে মাথায় মেঘ হয়ে টেনে নেয় আচ্ছন্নতায়

ডিপ্রেশন

 কাটা মুন্ডুটা টেবিলে ঢেলে রেখে, অনেকক্ষণ অপলক তাকিয়ে দেখে, এক নিঃশ্বাসে অবশেষে গেলাম বুঝে,  মাথা  এখনও অঝোরে  ব্যাথা করছে। আমার মেয়েটা পেঁচিয়ে বিড়াল হয়ে পড়ে রইল, অনন্তর অসীম অন্ধকারের রাত্রি নিপতিত হইল, মুন্ডুটা গড়াতে গড়াতে পায়ের কাছে এসে - মিনতি করে শেষে বলে মুক্তি দাও বিধাতা হে; এ ধরণীতে আর জন্মাইবার নয়।

নব্বইয়ের দশকের প্রেম

প্রেমের ক্যাসেট আর নিয়ে গোলাপ ফুল তোমার বারান্দায় উস্কোখুস্কো চুল হাত বাড়িয়ে রই দাঁড়িয়ে আ বে গে মধ্য দুপুরে তোমার নুপুরে ঝানাক ঝানাক তাল হই সুরে মাতাল যাচ্ছ চলে ভাবটি নিয়ে সানগ্লাসে বিকেল বেলাতে চায়ের কাপ হাতে মগ্ন থাকো হায় সুনীল বুদ্ধতে আমার দিকেও একটু তাকাও চোখ তুলে তোমার বান্ধবী মল্লিকা ছবি হেসেই হচ্ছে খুন করছে খুনসুটি ওদের কথাও ভেবে একটু প্রেম দেখাও

কুরবান হৃদয়

 পঞ্চভূতের কারখানাতে খেলছ দয়াল দয়াময়।। তোমার তরে কুরবানি হৃদয় ওরে দয়াময় তোমার তরে কুরবানি হৃদয়। দেহের ভেতর আরশ করে নিরাকারের নিরঞ্জন তারে খুঁজেই মানব জীবন কাটাচ্ছি এ অভাজন  গুরুর নামে ভক্তি করে রাত্রি কাটাই অনিদ্রায় মনে আশা  শেষের দিনে পার করিবে আলেক সাঁই ও খোদা মুর্শিদ আমার  গুরুও আমার তুমিই আমার আলেক সাঁই তোমার তরে কুরবানি হৃদয় ওরে দয়াময় তোমার তরে কুরবানি হৃদয়। হাতটি ধরে পার করিবে পরপারের পুলসিরাত।। দয়াল আন্ধারেতে পথ দেখানো  চাঁদ আমার মুর্শিদরে আন্ধারেতে পথ দেখানো চাঁদ তোমার জিকির তুলছে রূহ আট কুঠরে এ আমার একবার এসে দেখা দিয়া স্বপ্ন পুরাও অভাগার কবে মিলন হবে গুরু, শিষ্য হবে ইলমদার  ভক্তিতে মন সিক্ত হবে কাঁদব আমি বারংবার।। তোমার তরে কুরবানি হৃদয় ওরে দয়াময় তোমার তরে কুরবানি হৃদয়।